রীতি আর মিঠু রীতির ছুটি সবেমাত্র শুরু হয়েছে
কিন্তু তার মনে আনন্দ নেই। ছুটি তার ভালো লাগেনা কারণ সে তার বন্ধুদের দেখতে পায় না।
একদিন সে কথাবলা টিয়াপাখি মিঠুকে পোষ্য হিসেবে পেল। মিঠু কি তার প্রিয় বন্ধু হতে
পারলো? তা জানতে এই মন খুশি করা গল্পটি পড়।
এইটি তৃতীয় স্তরের বই-স্বাধীন ভাবে পড়তে সক্ষম পাঠকদের জন্য।
রীতি আর মিঠু
রীতির ছুটি শুরু হয়েছে। কিন্তু সে একটুও খুশি নয়। তার
ছুটি এক্কেবারে ভালো লাগে না৷ স্কুলে
যেতেই তার বেশি ভালো লাগে৷ কেন জানো? স্কুলে ওর অনেক বন্ধু আছে। বাড়িতে তার কোনো
খেলার সঙ্গী নেই। রীতির বাবা ওকে খেলনা আর বই এনে দেন, গল্পও বলেন যা ওর ভালো লাগে।
বাবা রোজ সকালে যোগ ব্যায়াম করেন। রীতির সেটাও ভালো লাগে আর সে বাবাকে নকল করতে চেষ্টা
করে।
তার মা কবিতা লেখেন আর কম্পুটারে কাজ করেন।
মা যখন কম্পুটারে কাজ করেন তখন তা দেখতে ওর খুব ভালো লাগে। মায়ের পেটের দিকে তাকিয়ে
থাকতেও ওর ভালো লাগে। মায়ের পেটটা বড় আর গোল হয়ে ফুলে উঠছে কারণ ওখানে ছোট্ট বাচ্চা
আছে। মা বলেন “শিগগিরই তোমার একটি ভাই কিংবা বোন্ আসবে আর সে তোমার সঙ্গে খেলবে”,
রীতির এই খবরটা ভালো লাগে। কিন্তু এখন তার কোনো খেলার সাথী নেই। কাছাকাছি কোনো বন্ধুও
থাকে না যার সঙ্গে খেলা যায়।
তারপর একদিন সন্ধেবেলায় দরজার ঘন্টি বাজলো।
দেখা গেল তাদের পড়শী দাসকাকু দরজার বাইরে একটা কালো খাঁচা নিয়ে দাড়িয়ে আছেন যার
মধ্যে একটা উজ্জল সবুজ রঙের টিয়াপাখি বসে আছে। “আমরা এই শহর ছেড়ে যাচ্ছি” দাসকাকু
বললেন “তোমরা কি আমাদের মিঠুকে পুষবে? ও কথা বলতে পারে!”
মা বাবা মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলেন। তাঁরা
মনে করেন পাখিদের খাঁচায় বন্ধ করে রাখা ঠিক নয়। কিন্তু রীতি খুব উত্তেজিত! “হ্যাঁ
কাকু!” হাসতে হাসতে সে বলল। আর এইভাবে মিঠু রীতির বন্ধু হলো।
“হ্যালো মিঠু!”
রীতি বলল মিঠু ওর দিকে তাকালো “হ্যালো!”
মিঠু বলল “হ্যালো!”
রীতির খুব মজা লাগলো। “তোমার নাম কি?” সে জিজ্ঞাসা
করলো।
টিয়াপাখি এবারেও বলল “হ্যালো!”
রীতি
বলল “না, তোমার নাম মিঠু। বল মিঠু”
মিঠু এবারেও বলল “হ্যালো”
না! না! রীতি মাথা নাড়তে নাড়তে বলল “আমরা
আবার চেষ্টা করব। আমার নাম রীতি। মিঠু, ভালো করে শোনো। আমার নাম রীতি। তোমার নাম কি?”
মিঠু বলল “হ্যালো”
“না!” মিঠু হাসতে হাসতে বলল” মিঠু তুমি খুব
দুষ্টু ছেলে!”
রোজ রীতি মিঠুকে নতুন নতুন কথা শেখাবার চেষ্টা
করতে লাগলো। “বলো বা-বা। বলো মা। বলো রীতি”
কিন্তু মিঠুর ওই একটাই কথা “হ্যাল-লো”
একদিন মা রীতিকে তার বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে
নিয়ে গেলেন শহর থেকে দূরে। রীতির সব বন্ধুরা এসেছিল, সবাই মিলে খুব আনন্দ ফুর্তি হলো।
রীতি মিঠুর জন্যে এক টুকরো জন্মদিনের কেক আনলো।
কিন্তু কোথায় সে?
“মা! মা! মিঠু কোথায় গেল?” রীতি কাঁদতে কাঁদতে
এঘর ওঘর খুঁজে বেড়াতে লাগলো।
মা বললেন “আমি তো জানিনা, কিন্তু কেঁদোনা আমরা
ওকে ঠিক খুঁজে বের করব।”
ঠিক সেই সময়ে বাবা ঘরে ঢুকলেন তাঁর হাতে মিঠুর
খাঁচা।
মিঠু বলল “হ্যালো!”
বাবা বললেন “আমি তোমার বন্ধুকে তাজা হাওয়া
খাওয়াতে পার্কে নিয়ে গেছিলাম”
রীতি খুব আশ্বস্ত হলো! সে মিঠু কে তার আনা
কেক খেতে দিল কিন্তু মিঠু খেল না।
রীতির ছুটি শেষ হয়ে আসছিল। সে একদিন দেখল
এক ঝাঁক টিয়াপাখি তার জানলার বাইরে যে
গাছটা আছে সেটাতে উড়ে এসে বসলো। তারা সবাই কিচির মিচির করে জোরে জোরে নিজেদের
মধ্যে অনেক কথা বলছিল।
মিঠুর খাঁচাটা রীতি জানলার পাশে এনে রাখতেই
সে যেন পাগল হয়ে গেল। সে কিচির মিচির করে লাফিয়ে ডানা ঝাপটে উড়বার চেষ্টা করতে লাগলো।
রীতি তাই দেখে জিজ্ঞাসা করলো “ওরা কি তোমার
বন্ধু মিঠু?”
মিঠু কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু জানলার বাইরের
টিয়াপাখিদের দিকে তাকিয়ে রইলো।
টিয়াপাখির ঝাঁক যেমন দ্রুত এসেছিল তেমনি দ্রত
উড়ে গেল।
“ওরা কি বলছিল মিঠু?” রীতি জিগ্গেস করলো।
“হ্যালো” দুঃখভরা গলায় মিঠু বলল “হ্যালো”
রীতির ছুটি শেষ।
স্কুলের প্রথম দিন। সব বন্ধুদের আবার দেখা
হলো। টিফিনের সময়ে তারা আনন্দে খেলাও করলো।
তাদের স্কুলের মাঠের গাছগুলোতে অনেক পাখি সারাক্ষণ
কিচির মিচির করে।
রীতি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখল মিঠু চুপচাপ
তার খাঁচায় বসে আছে।
“হ্যালো মিঠু" সে ফিসফিস করে বলল।
মিঠু তাকালো কিন্তু কিছু বলল না।
রীতি তার স্কুল ব্যাগটা একপাশে রেখে জানলাটা
খুলে দিল। তারপর সে খাঁচার দরজাটাও খুলে দিল।
"যাও মিঠু ! যাও তোমার বন্ধুদের খুজে
নাও" রীতি বলল।
মিঠু ওর দিকে তাকালো। " যাও মিঠু"
সে আবার বলল " উড়ে যাও!"
মিঠু খাঁচা থেকে এক পা বাইরে বেরোলো। শেষবারের মত রীতির দিকে তাকালো আর বলল "হ্যালো", তারপর ডানা মেলে উড়ে গেল দুর থেকে দুরে তার বন্ধুদের কাছে।
***কার পোষা প্রাণী দরকার?
যে কেউ, যে একজন বিশ্বস্ত আর যে ভালবাসবে এমন কাউকে খুঁজছে। যদি
তোমার একা লাগে, খারাপ লাগে একজন পোষ্য নিশ্চয়ই তোমাকে সাহায্য করতে পারে। ..সে এমন
একজন যে তোমাকে আনন্দ দিতে পারে। সে তোমার সঙ্গে খেলবে, তোমার ভালো লাগবে, তোমাকে অনেক
দরকারী কিছু শেখাবে, তোমার জীবনে মজাই মজা এনে দেবে । আর বলো তো কে তা চায় না?
***একটি প্রানীকে তুমি পুষবে কি
পুষবে না?
নিশ্চয়ই, প্রাণী পোষা খুবই মজা। কিন্তু তাড়া-তাড়ি
করো না। একটু ভেবে দেখো।
- তোমার বাবা মা রাজি আছেন তো?
- তুমিকি সত্যিই একটি পোষা প্রাণী চাও? মনে রেখো সে সারা জীবন
তোমার সঙ্গে থাকবে। সে একটি খেলনা নয় যে তোমার মন ভরে গেলে তুমি তাকে ফেলে দিতে পারো।
- ওদের খাবার, পরিষ্কার জল, ব্যায়াম ও ভালবাসা দরকার। তাদের
প্রশিক্ষণ দিতে হবে, চান করাতে হবে আর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তার মানে হলো
তোমাকে প্রতিদিন তাদের জন্যে অতিরিক্ত কাজও করতে হবে। তোমার কাছে সে সময় আছে তো?-
সে যখন কাদা পা এনে ঘর নোংরা করবে কিংবা আসবাবপত্র চিবোবে তখন তাকে মাফ করতে পারবে
তো?
***আমি কি সত্যিই একটি প্রানীকে
পোষবার জন্যে তৈরী?
তোমার প্রিয় বন্ধুর একটি পোষা প্রাণী আছে
তাই তোমারও চাই! তুমি ভাবছো কি রাখবে - কুকুর? বেড়াল? নাকি অন্য কিছু? একটা ইদুরও
পুষতে পারো বলে ভাবছো। এইখানে একটু দাঁড়াও আর নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন কর।
***আমার কাছে কি পোষা প্রাণীর দেখাশোনা
করার সময় আছে?
একটি প্রানীকে পোষা মানে অনেক বড় দায়িত্ব।
প্রশিক্ষণই বল কিংবা খাওয়ানো নয়তো শুধুই ভালবাসা, তোমাকে তোমার পোষ্যের জন্যে অনেক
সময় খরচ করতে হবে।
***আমার বাড়িতে কি পোষ্যের জন্যে
যথেষ্ট জায়গা আছে?
ছোট প্রাণীরা যেমন বেড়াল, রঙিন মাছ কিংবা
পাখিরা কে কোনো আকারের বাড়িতে থাকতে পারে। কিন্ত কুকুরদের ছুটে বেড়ানোর আর ব্যায়াম করার জন্যে বড়
জায়গা দরকার।
***কি ধরনের পোষ্য আমি চাই?
যদি তুমি কোনো বিশেষ রকমের প্রাণী পুষতে চাও
তাহলে পশু চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলো - অথবা সেই প্রাণী যারা পুষেছে তাদের সঙ্গে কথা
বলো। তারা কি খায় আর কেমন আচরণ করে তা জানার চেষ্টা করো। তারপর ভালো ভাবে ভাবো যে সে রকমের প্রাণী
তোমার পক্ষে পোষা সম্ভব কিনা।
***আমি কতটা খরচ করতে পারি?
সব পোষা প্রাণীদেরই খাবার আর থাকার জায়গা
দরকার। তাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্যে তাদের পশু চিকিত্সকের কাছে সময়ে সময়ে নিয়ে
যাওয়া দরকার। রোগ প্রতিরোধক ইনজেকশন দেওয়া ছাড়াও তারা অসুস্থ হলে পশু চিকিত্সকের কাছে নিয়ে
যেতে হবে। তুমি এইসব খরচের জন্যে কি তৈরী?
***বাড়িতে সবাই তাকে ভালবাসবে তো?
তুমি হয়ত জীব জন্ত ভালোবাসো , কিন্তু বাড়িতে
সবাই কি তোমার মতো ? কোনো প্রানীকে বাড়িতে পোষ্য হিসেবে নিয়ে আসার আগে ভালো করে বাড়ির সকলের মতামত
জেনে নেওয়া খুব দরকার।
এই রকম গল্প, হাসির নাটক আর পড়ার জন্য এখুনি এই ওয়েবসাইটটি Follow করে নিন। আর এই গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো সেটি কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

إرسال تعليق